মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০২ অপরাহ্ন

খবরের শিরোনাম :
বিএনপি’র বিভাগীয় সমাবেশের দু’দিন আগেই রংপুরে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষনা মটর মালিক সমিতি। ধর্মঘট উপেক্ষা করে রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার ঘোষনা বিএনপি’র, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ব্যবসার পরিবেশ দিয়েছি, আপনারা দেশের কথা ভাবুন— ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী আ.লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে জাপা নেতা জয়ী হারাগাছে মাদ্রাসার কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ বহিষ্কৃত সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে। সমাধান দিলো পুলিশ, হরিজন সেই কিশোরকে মিষ্টি খাওয়ানো হলো রংপুর সিটি নির্বাচনে মোস্তফাকে জাপার মেয়র প্রার্থী ঘোষণা রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রউফ মানিককে জাপা থেকে অব্যাহতি পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করায়, পরিবারের হয়রানি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দম্পতি পাগলাপীর বাইক রাইডার্স এর মাধ্যমে নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমে খাবার বিতরণ।
সাড়ে তিনবছরে রংপুর নগরবাসিকে নিশ্চিন্তে ঘুম উপহার দিয়েছে আরপিএমপি

সাড়ে তিনবছরে রংপুর নগরবাসিকে নিশ্চিন্তে ঘুম উপহার দিয়েছে আরপিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুই একটি ব্যত্যয় ছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সাড়ে তিনবছরে রংপুর মহানগরবাসিকে নিশ্চিন্তে ঘুম উপহার দিয়েছে আরপিএমপি। নগরীর আইনশৃঙখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মানবতার বন্ধনে নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম আরপিএমপিকে নিয়ে গেছে অন্যরকম উচ্চতায়। অপরাধী নিজ বাহিনীর হলেও তাকে কোনভাবেই ছাড় দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স প্রক্রিয়ার কারণে নগরবাসির ভরসার জায়গা এখন প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দাবি এই অর্জনের জন্য তার পুরো টিম এবং নগরবাসি সবার শ্রম, দায়িত্বশীলতা এবং সহযোগিতা রয়েছে।

নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০১৮ সালেল ১৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-আরপিএমপি। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিন থেকেই অপরাধ দমনে বড় ধরণের সাফল্য দেখায় প্রতিষ্ঠানটি।

অপরাধ দমন: আরপিএমপির আর্কাইভ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  দুই বছরে আরপিএমপি ৩ টি জোনের অধীন ৬ টি থানায় মোট ২ হাজার ৭৫১ টি মামলা রুজু করে নিস্পত্বি করেছে ২হাজার ২২১ টির। ৩ হাজার ৮৪ জন আসামীকে গ্রেফতার কওে আদালতে সোপর্দ করা ছাড়াও এই সময়ে ৪ হাজার ৭৪ টি জিআর ওয়ারেন্ট, ১ হাজার ৬১৬ টি সিআর ওয়ারেন্ট ও ২১৩ টি সাজা ওয়ারেন্ট নিস্পত্তি করেচে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উদ্ভূত নানা ধরণের আইনগত সমস্যা প্রতিকারের এই সময়ে ৬ হাজার ১৮২ টি নন এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করা করেছে।

প্রতিষ্টানটির আর্কাইভ, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং অপরাধ দম বিষয়ক বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের তথ্যমতে, অপরাধ দমন করতে গিয়ে বাহিনীর নিজস্ব সদস্যদেরর ছাড় দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।কলেজ ছাত্রী ধর্ষন মামলায় দ্রæততম সময়ের মধ্যে হারাগাছ থানার এএসআই রায়হানকে গ্রেফতার কওে আদালতে পাঠিয়েছে আরপিএমপি। শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও হত্যা মামলাসহ ক্লুলেস মামলার রহস্য কম সময়ের মধ্যে উদঘাটন করে নগরবাসির আস্থা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে কোতয়ালীর লিচুবাগান এলাকার যুবক উজ্জল খুন, গণেশপুরের  একই পরিবারের দু’বোন হত্যা, মরিচটারীর শিশু হত্যা, তাজহাট থানা এলাকার বাদশা মিয়া হত্যা, মাহিগঞ্জ থানা এলাকায় যুবককে পায়ুপথে হাওয়া দিয়ে হত্যাকান্ডের মামলায় দ্রæততার সাথে রহ¯্র উম্মোচন, প্রধান অভিযুক্তসহ আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে।  এছাড়াও হারাগাছ থানায় নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোল ছাপানো মেশিন উদ্ধার, নারী ও শিশু নির্যাতন তৎসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে দায়েরকৃত মামলা, পরশুরাম থানা এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করা অবস্থায় হাতেনাতে উগ্রপন্থি দুষ্কৃতিকারী গ্রেফতার এবং চেতনানাশক সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। হাজীরহাট থানার চাঞ্চল্যকর কিশোরী গণধর্ষণ মামলার সকল আসামীদের গ্রেফতারসহ প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা, অপহরণ অশ্লীল ছবি ধারন মুক্তিপণ আদায়কারী গ্রেফতার; অপহরণ এবং ২৪ ঘন্টায় ভিকটিম উদ্ধারসহ আসামী গ্রেফতারের বিষয়টিতে নগরবাসি আশ্বস্থ হয়েছেন।

সূত্র মতে, গত সাড়ে তিনবছওে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মহানগরীরর বিভিন্ন অপরাধ দমন, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, বিভিন্ন প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার, নকল স্বর্ণের মূর্তি উদ্ধার, আন্তঃ জেলা ইজিবাইক চোর চক্রকে গ্রেফতার, নকল স্টাম্প ও ব্যান্ডরোল উদ্ধার, মেয়াদোত্তীর্ণ আটা উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে। প্যান্ডেমিক মোকাবেলায় টিসিবি ও ওএমএসের পণ্যের চোরাচালান সংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করে খাটের নিচে টিসিবির চোরাই পণ্য মজুদের কারখানায় অভিযানসহ ভেজাল ব্লিচিং পাউডার উদ্ধার, নকল প্রসাধণী উদ্ধার, নকল ধানের বীজ উদ্ধার, অবৈধ প্লাস্টিক কারখানা, অনুমোদনবিহীন সেমাই কারখানায়, নকল মবিল (লুব্রিক্যান্ট ওয়েল) কারখানা, নকল তেল তৈরীর কারখানায় অভিযান, নকল স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উদ্ধার, হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সমূহের অবৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা রোধ, অনুমোদনবিহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সিলগালাকরণ, ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতারের মত পদক্ষেপের মাধ্যমে রংপুর মহানগরীকে বাসযোগ্য ও নিরাপদ রাখার পদক্ষেপ গ্রহন করেছে আরপিএমপি। এছাড়াও ছাড়াও অসংখ্য জুয়াড়– গ্রেফতারসহ পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিস এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গোয়েন্দা শাখা অভিযান চালিয়ে ১৯৫ জন দালালকে আইনের আওতায় এনেছে। আরপিএমপির ক্রাইম ডিভিশন ও গোয়েন্দা বিভাগকর্তৃক সার্বক্ষনিক রণপাহারা ও নজরদারীর ফলে নগরবাসীর মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোর্ট পুলিশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মামলা দ্রæততর নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই সময়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধীদের বিভিন্ন দল-গোষ্ঠীকে শক্ত হাতে প্রতিহত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও দিবারাত্রি পুলিশ টহলের মাধ্যমে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণেই মানুষ এই নগরীতে নিরাপদে বসবাস করছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গত দুই বছরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ২ টি জোনের অধীনে ৯৫ হাজার ৫৯০ টি মামলা ও ৮ কোটি, ৭ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ টাকা জরিমানা আদায় কওে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে। এই সময়ে ৫ হাজার ৩৪৯ টি যানবাহন আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হয়রানি রোধকল্পে মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকেই ট্রাফিক বিভাগে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়। ট্রাফিক বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ট্রাফিক সদস্যদের মাঝে ইড়ফু ডড়ৎহ ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন স্থানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে পার্কিং ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। সড়ক ও মহাসড়কের পাশের্^ ট্রাফিক সচেতনতামূলক পর্যাপ্ত বিলবোর্ড স্থাপন, পার্কিং জোন এবং নো-পার্কিং জোন চিহ্নিত করা হয়। এতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙখলা ফিরে এসেছে। যদিও নগরীর প্রধান সড়কে যানজট নিরসনে এখনও সম্ভব করতে পারে নি আরপিএমপি।

পরিবহন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নজরদারির করা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করার লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ৫ শতাধিক সিসিটিভি সংযোগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সাশ্রয়ীমূল্যে এ্যাম্বুলেন্সসেবা প্রদাণে মেট্রোপলিটন এলাকায় এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা পাচ্ছে নগরবাসি।

বিট পুলিশিং: ‘বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি’ শ্লোগানে পুলিশের সেবাকে জনগণের নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য ৬ টি থানা, ২ টি ইউনিয়ন, ৩৩টি ওয়ার্ডকে ৫৫ টি বিটে ভাগ করে বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশি সেবা জনগণের দোড়গোরায় পৌঁছে দেয়ার চেস্টা করছে আরপিএমপি। থানা ভিত্তিক কম্যিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে জনগণকে পুলিশিং কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।এতে পুলিশি সেবা সরাসরি থানা থেকে তৃর্ণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় একইসাথে সমাজ থেকে অপরাধভীতি দূর এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই সময়ে নগর বিশেষ শাখা ভিআর তদন্ত, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যেই ৭৬ হাজার ২১১ জন নাগরিকের তথ্য সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-সিআইএমএস এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মহানগরের সকল নাগরিকের এর আওতায় আনা হবে।

এস্টেটিং কার্যক্রম: রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩য় বছরে এসে এস্টেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতিশীলতা এসেছে। পুলিশ লাইন্সের জন্য দর্শনা পাহাড়ী মৌজার ১০ একর, হারাগাছ থানা, পরশুরাম থানা, হাজিরহাট থানা ও তাজহাট থানার প্রত্যেকটির জন্য দশমিক ৭৫ একর এবং পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় এর জন্য গণেশপুর মৌজায় ১০ একরসহ পুলিশ কমিশনারের বাসভবনের জন্য রঘুনাথগঞ্জ মৌজাস্থ দশমিক ৩৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া  জেলা পুলিশ থেকে প্রাপ্ত নবাবগঞ্জ ও ধাপ পুলিশ ফাঁড়ি ভবনের ৬ তলা এবং পুলিশ অফিসার্স মেস এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কোভিড-১৯ এ: করোনা অতিমারীতে টিকা প্রদান ও করোনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা অগ্রিম তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ১০ লক্ষাধিক মাস্ক, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লক্ষাধিক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মাহামারী মোকাবেলায় ত্রাণ হিসেবে নি¤œ আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্য দ্রব্য, স্বাস্থ্যবিধান সামগ্রী (হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, জীবানুনাশক) বিতরণ করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে মেট্রোপলিটন এলাকায় জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। এতিম শিশু ও দুস্থ মানুষদের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিলি করা হয়েছে। করোনকালীন সংকট সময়ে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে মাঠ পর্যায়ে ডিউটি করতে গিয়ে গত এক বছরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬৫ জন সদস্যসহ এ যাবৎ ২৩৭ জন সদস্য কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন। সংকট সময়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জীবনের ঝুকি নিয়ে নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিল ।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালে পুলিশ ও নন-পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ফেস শিল্ড, হ্যান্ড গ্লাভস, সাবান, ঔষধ সরবরাহ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ লাইন্স ব্যতীত শিরিন পার্ক ও শিমুলবাগ কমিউনিটি সেন্টার ভাড়ায় গ্রহণ করে অফিসার ও ফোর্সদের বিভাজন করে নিরাপদ রাখা, করোনায় আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইনে রেখে প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে প্লাজমা দানের জন্য ১৬ জন পুলিশ সদস্যকে প্রেরণ, শতভাগ আরপিএমপি পুলিশ সদস্যদের করোনা ভ্যাক্সিন গ্রহণ নিশ্চিত করা।

মানবতার বন্ধনে রংপুর: সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে সহযোগিতার বিষয়টি টেকসই রূপ দেয়ার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দূরদর্শী ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে “মানবতার বন্ধনে রংপুর” নামক সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়মিত সহযোগিতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে সহযোগিতার লক্ষ্যে “মানবতার বন্ধনে রংপুর” নামক সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ‘মানবতার বন্ধনে রংপুর’ এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজন করা হয়। মানবতার বন্ধনের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশ চলমান রেখে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গাছের চারা রোপন, নিরাপদ খাবার পানি (নলকূপ স্থাপন) সরবারহসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম জোড়ালোভাবে নিয়মিত চলমান রয়েছে। আরপিএমপির তৎপরতায় সাড়াশি অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নাশকতার সাথে সম্পৃক্তদেরকে গ্রেফতার এবং ব্যাপক জিহাদী বই এবং সরকার বিরোধী ব্যানার ফেস্টুন ইত্যাদি উদ্ধার করে। মানবতার বন্ধনের উদ্যোগে হারাগাছ থানার অধীনে ইয়াতিম খানা চালু করা হয়েছে। যেখানে বিনা পয়সায়, সুন্দর মনোরম পরিবেশে কোরআনের হাফেজ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাজহাট থানার অধীনেও ইয়াতিম খানা চালুর প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে। মাদকের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে সভা-সমাবেশ অব্যাহত আছে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি: ‘পুলিশ ট্রেনিং স্কুল’ চালু ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ডিজিটালাইজড করা এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন করে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, সকল থানা ও কোর্টে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হেল্পডেস্ক প্রস্তুত ও জনবল পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ লাইন্সে আধুনিক ডাইনিং হল নির্মাণ, সকল ইউনিটকে সিসি ক্যামেরা তথা ডবন ইধংব ঘবঃড়িৎশ-এ আনয়ন, মোটরযান শাখা আধুনিকায়ন, এপিসি, ওয়াটার ক্যানন, এ্যাম্বুলেন্স, ফোর্স বহনকারী বাস, রেকার ও অন্যান্য যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সকল যানবাহনের সংকুলান এবং হেডকোয়ার্টার্স ডিভিশনের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে মোটরযান শাখায় নতুন ৮ টি গাড়ি সংযোজন করা হয়েছে। আরপিএমপি চলতি বছর থেকে ‘রংপুর মেট্রো-০০-০০০০ রেজিস্ট্রেশন’ লিখিত নম্বর সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  রংপুর বিভাগে সর্বপ্রথম কমিউনিটি ব্যাংক এর বুথ চালুকরণ।

ডিজিটালাইজেশন ও প্রকাশণা: আরপিএমপির ওয়েবসাইট মেইনটেইনেন্স ও আপডেট করা ছাড়াও  ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের প্রকাশ করেছে। যেখানে রংপুর মহানগরী এলাকার পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকথা উপস্থাপিত হয়েছে।  কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে বিশিষ্টজনদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট, পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, আরপিএমপি লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা ও একটি সু-সজ্জিত আরপিএমপি ব্যান্ড দল গঠন। পুনাক গঠনের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত মানুষের  পাশে থাকার নতুন প্লাটফর্ম যুক্ত করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্ম ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও উপকরণ হেডকোয়ার্টার্স ডিভিশন কর্তৃক সরবরাহের মাধ্যমে একটি দৃষ্টি নন্দন আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করেছে। যেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, পুলিশ সম্পর্কে গুরুর্ত্বপূর্ন তথ্য জ্ঞান ও গবেষণার জন্য অনুরাগিরা গ্রহন করতে পারছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন-এর রংপুর মহানগরীর সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু জানান, আরপিএমপি প্রতিষ্ঠার পর আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি। আইনশৃঙখলা নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে দুই একটি ছোট খাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নগরবাসির সবাই খুশি। সব থেকে বড় কথা এর মধ্যেও কোন ঘটনা ঘটে গেলে  দ্রæততম সময়ে সেটার রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতারের  বিষয়টি সাধুবাদযোগ্য। এক্ষেত্রে তারা নিজেদের সদস্যদের ব্যপারেও সেটি করেছে। আমরা চাই আরপিএমপি হবে আরও মানবিক, আরও সামাজিক এবং সর্বোপরি নগরবাসির ভয়হীন হয়রানীছাড়াই আশ্রয়স্তল।

রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর আরপিএমপি যাত্রা শুরু করেছে। এই সময়ে তাদের প্রতিটি ইউনিট দক্ষতার সাথে কাজ করছে। সেকারণে নগরীতে আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি ভালো। আমরা এখন নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমাতে পারি। আমিসহ নগরবাসিও খুশি। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সক্ষমতা বড়াতে হবে। কোন অপরাধীকের ছাড় দেয়া যাবে না।

এ ব্যপারে আরপিএমপির প্রথম কমিশনার মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ জানান, আরপিএমপির প্রতিটি সদস্য জনগনের জীবন এবং সম্পদের রক্ষায় কাজ করছি। একটি সুন্দর টিম ওয়ার্কেও পাশাপাশি সবার মধ্যে জবাবদিহীতার মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করার মানসিকতা থাকায় আমরা নগরবাসিকে নিরাপদ রাখতে পারছি। এজন্য আমার আরপিএমপির টিমসহ নগরীর সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা আমাদের কাজকে আরও উৎসাহিত করেছে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

© ২০১০-২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক মায়াবাজার.কম
Developed BY Rafi It Solution